সঙ্ সমাচার
নিত্য যত সম্পদ গোপনে লুট ক’রে আনি
প্রকাশ্যে বিধাতা চুরি ক’রে নিয়ে যায়
টিকে থাকে বিধাতার ভারসাম্যের মহাসংসার
লুটেরা নরাধমের সম্পদের জমানো পাহাড়
গণফুৎকারে নিমেষেই ছারখার
চূড়ান্ত বরাদ্দে ভিখারির সঙ্ সাজাই সার.....
২৫/০৭/২০০৫ খ্রি:
মধ্যভাষণ
বৃহস্পতির কোনো উপগ্রহে জলের সন্ধান মিলেছে কিম্বা মেলেনি
তা’ নিয়ে ব্যস্ত-বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের জটিল তর্কালোচনার উদ্দেশ্যে
সম্ভবত আমরা কেউই এখানে আসিনি ...
অভিজাত-ভিখারিরা চেটে চেটে জিভের ছাল ক্ষয় ক’রে কার পায়ে
দগদগে ঘা বানালো আর কাদের উৎপাদিত আলু ভুট্টা বেগুন কলা
কুমড়ো কাঁঠাল গাজর মুলো রপ্তানি-নীতির গলদের কারণে
বিশ্ববাজারে যথাযথ মূল্য না-পেয়ে বর্জ্য হলো!
সেই কাহিনী শোনার মতো লম্বা ধৈর্য নিয়েও আসিনি এখানে ...
দক্ষতা-সাপেক্ষে সাধারণ জণগণের
সকল সম্ভাবনাময় উৎপাদনমুখি কর্মক্ষেত্রগুলো জেগে উঠলে
ঐ সার্বজনীন-লাভে ত্রাণখোর বিত্তবানদের কী পরিমাণ ক্ষতি হবে
কিম্বা তাদের দলগণের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে কোনো বাধা
আসবে কি-না এসব প্রমাণিত বিষয় নিয়ে পর্যালোচনার উদ্দেশ্যেও
সম্ভবত আমরা এখানে সমবেত হইনি ...
অলঙ্কার-উৎপ্রেক্ষা-উপমা ছাড়া কবিতা, রূপকবিহীন শিল্প ভাবনা
বিমূর্ত-ভাস্কর বিনির্মাণের চেষ্টা বা অপচেষ্টা আদৌ সফল হবে কি-না
কিম্বা হ’লেও কখনো কোনো প্রায়োগিক ক্ষেত্র খুঁজে পাবে কি পাবে না
তা’ নিয়ে সালিশি-বৈঠকও নয় আজকের এই সমাবেশ ...
সহচরীদের তীক্ষ্ণ বিদ্রুপ, অজুহাত-উত্থাপনকারীদের নিত্য ব্যস্ততার ভান,
আপামর জনগণের অহেতুক ভীতি প্রদর্শনের পরও কাব্যাকার বিলিপত্র
যত্রতত্র বিতরণের মতো স্বেচ্ছাচারি-আহাম্মকি-কর্মকাণ্ডকে কোনোভাবে
উৎসাহিত কিম্বা তিরস্কার করার উদ্দেশ্যেও কেউ আসিনি এখানে ...
সকল বিরূপ-আপত্তি ডিঙ্গিয়ে গণক্ষমা ক’রে দিয়েও এই ভূখণ্ডে
সাধারণ জনগণ তাঁদের বিচারবিভাগের স্বাধীনতা দেখতে পেলোনা ব’লে
উদ্দেশ্যমূলক কোনো ইস্তেহার ঘোষণার মাধ্যমে
গণজাগরণের নামে গণ-আক্রোশ জাগানোর
কূটনীতি নিয়েও কেউ আসিনি এখানে ...
আত্মসম্মানবোধ জাগ্রত না-হ’লে কিম্বা সম-মানের সমস্যায়
আক্রান্ত না-হ’লে আমরা কেউ আসতাম কি-না সেটাও আলোচ্য নয় ...
বরং নিজের প্রতিবিম্বিত-দশা-দর্শনের লক্ষ্যে বিকল্প পথ না-পেয়ে
সাময়িক অবসরের এই সম্মেলনে অন্য সকলের মতো শুনতেই এসেছি
বলা বাহুল্য এটা কোনো গণ-আদালত কিম্বা তর্কাগার নয়
সুধীবৃন্দ, নির্ভয়ে মুক্তমনে প্রত্যেকে স্ব-সত্য কিছু বলুন, নীরবে শুনবো,
কেবল অভিযোগ-বাক্য ছাড়া আর যা’কিছু বলবেন, --সবই শুনবো ...
রঙ্গপুর --২০/০৩/০৫ খ্রি:
বোধোদয়
আমার একার কোনো ভালোই যে, দেশের ভালো নয়...
সহজ এ বিষয়টা আমি বুঝতে চাই না সোজাসুজি
কখনো বা না-বোঝার ভানে পলায়ন চেষ্টা করি
তবে দশের পক্ষ থেকে চড়-থাপ্পড় আসতে দেখলে
দশের ভালোতে যে আমারও ভালো
হয়তো বা আমি তখন কিছুটা বুঝি
এখানে চড়-থাপড়ের বদলে যখন দেখি লাথি-গুরি
পালাতে না-পেরে ধরাপড়া আমি বুঝি পুরোপুরি
রঙ্গপুর --০৫/০৯/২০০৫
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০০৯
বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০০৯
ভিখারিনামা
সূরিয় প্রতিবেদন
ধৈর্য এবং সহ্যের ব্যাপারে
এই ভূখণ্ডের মানবসন্তানদের শ্রেষ্ঠত্ব
এখনো পর্যন্ত সবার উপরে ;
‘হাজারে পঁচিশ জন’ ভিখারির
বিচিত্র অপকর্ম দেখেও এরা
নীরবে সহ্য করে।
রঙ্গপুর - ০৫/০৯/২০০৩ খ্রি:
ভিখারি চরিত
ভিখারি
ঝুলি মেরামতে কালক্ষয় নাম-মাত্র ভোগ,
এতটাই ব্যস্ত যে যৎসামান্যই উপভোগ,
-ভিক্ষাজীবীর যা-কিছু ব্যয়;
-প্রায় সমস্তটাই অপব্যয়, -
--ব্যয়ের ধরণ দেখেই ভিখারি চেনা যায়।
ভিখারিরা কৃপণ, -কৃপণেরা ভিখারি;
--যখারীতি ভিখারিরা অপচয়কারী; -
--যতই থাকুক অস্থায়ী প্রভাব প্রতিপত্তি,
-ঘোচে না কাঙ্গালিপনা;
--কখনো তৃপ্ত হ’তে পারে না ভিখারি ॥
রঙ্গপুর - ০৩/০৯/২০০৩ খ্রি:
ভিখারির বাপেদের দশা
এখানে অবিবেচ্য সাময়িক প্রভাব,
এখানে অবিবেচ্য অস্থায়ী প্রতিপত্তি।
পার্থিব বিনিময় না-দিয়ে যারা
শুধু পেতেই চায় এবং পেতেই চায়;
-দাতার দানে জাগতিক চাহিদা মেটায়;
--তারাই ভিখারি, --অভিশপ্ত,
--অক্ষম মানবসন্তান।
তাদের পিতারা ভিতরে বাইরে
নিত্য বিধিবদ্ধ করুণাই শুধু পান।
অবিবেচ্য এখানে অস্থায়ী প্রভাব,
এখানে অবিবেচ্য সাময়িক প্রতিপত্তি।
এবং সমাজে এবং মানুষের মনে,
ভিখারির বাপেদের বরাদ্দে
সর্বোচ্চ নিকৃষ্টতম স্থান ॥
রঙ্গপুর - ৩০/০৭/২০০৩ খ্রি:
ভিখারি থেকে মানুষ
ভিখারি, ভিখারির প্রতিদ্বন্দ্বী ॥
মানুষ এবং ভিখারি সমান নয়;
-মানুষ নয় অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী।
মানুষ, -প্রত্যেকেই অপ্রতিদ্বন্দ্বী,
--ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য নিয়ে ধন্য।
মানুষের দ্বন্দ্ব নিজের সঙ্গে; -
মানুষ নিজেই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী ॥
মানুষের সঙ্গে ভিখারির তুলনা !--
-কিম্বা, -ভিখারির সঙ্গে মানুষের!-
--খণ্ড যুক্তি দিয়ে মেলানো গেলেও
তা’ দিয়ে বাস্তব বিধান চলে না।
ভিখারি থেকে মানুষে রূপান্তর সম্ভব ;
কিন্তু ! মানুষ থেকে ভিখারিতে রূপান্তর !
-অসম্ভব, -অসম্ভব, --অসম্ভব ॥
রঙ্গপুর - ১৫/০৯/২০০৩ খ্রি:
ধৈর্য এবং সহ্যের ব্যাপারে
এই ভূখণ্ডের মানবসন্তানদের শ্রেষ্ঠত্ব
এখনো পর্যন্ত সবার উপরে ;
‘হাজারে পঁচিশ জন’ ভিখারির
বিচিত্র অপকর্ম দেখেও এরা
নীরবে সহ্য করে।
রঙ্গপুর - ০৫/০৯/২০০৩ খ্রি:
ভিখারি চরিত
ভিখারি
ঝুলি মেরামতে কালক্ষয় নাম-মাত্র ভোগ,
এতটাই ব্যস্ত যে যৎসামান্যই উপভোগ,
-ভিক্ষাজীবীর যা-কিছু ব্যয়;
-প্রায় সমস্তটাই অপব্যয়, -
--ব্যয়ের ধরণ দেখেই ভিখারি চেনা যায়।
ভিখারিরা কৃপণ, -কৃপণেরা ভিখারি;
--যখারীতি ভিখারিরা অপচয়কারী; -
--যতই থাকুক অস্থায়ী প্রভাব প্রতিপত্তি,
-ঘোচে না কাঙ্গালিপনা;
--কখনো তৃপ্ত হ’তে পারে না ভিখারি ॥
রঙ্গপুর - ০৩/০৯/২০০৩ খ্রি:
ভিখারির বাপেদের দশা
এখানে অবিবেচ্য সাময়িক প্রভাব,
এখানে অবিবেচ্য অস্থায়ী প্রতিপত্তি।
পার্থিব বিনিময় না-দিয়ে যারা
শুধু পেতেই চায় এবং পেতেই চায়;
-দাতার দানে জাগতিক চাহিদা মেটায়;
--তারাই ভিখারি, --অভিশপ্ত,
--অক্ষম মানবসন্তান।
তাদের পিতারা ভিতরে বাইরে
নিত্য বিধিবদ্ধ করুণাই শুধু পান।
অবিবেচ্য এখানে অস্থায়ী প্রভাব,
এখানে অবিবেচ্য সাময়িক প্রতিপত্তি।
এবং সমাজে এবং মানুষের মনে,
ভিখারির বাপেদের বরাদ্দে
সর্বোচ্চ নিকৃষ্টতম স্থান ॥
রঙ্গপুর - ৩০/০৭/২০০৩ খ্রি:
ভিখারি থেকে মানুষ
ভিখারি, ভিখারির প্রতিদ্বন্দ্বী ॥
মানুষ এবং ভিখারি সমান নয়;
-মানুষ নয় অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী।
মানুষ, -প্রত্যেকেই অপ্রতিদ্বন্দ্বী,
--ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য নিয়ে ধন্য।
মানুষের দ্বন্দ্ব নিজের সঙ্গে; -
মানুষ নিজেই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী ॥
মানুষের সঙ্গে ভিখারির তুলনা !--
-কিম্বা, -ভিখারির সঙ্গে মানুষের!-
--খণ্ড যুক্তি দিয়ে মেলানো গেলেও
তা’ দিয়ে বাস্তব বিধান চলে না।
ভিখারি থেকে মানুষে রূপান্তর সম্ভব ;
কিন্তু ! মানুষ থেকে ভিখারিতে রূপান্তর !
-অসম্ভব, -অসম্ভব, --অসম্ভব ॥
রঙ্গপুর - ১৫/০৯/২০০৩ খ্রি:
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০০৯
প্রকাশিত কবিতা
প্রকাশিত কবিতা
শীতে কাতর হইনি ॥
-কাজের সন্ধানে সন্ধানে ক্ষয় হ’তে হ’তে
কিছু শক্তি এখনো আছে দেহে, -যা’দিয়ে
এ’পাশ ও’পাশ ফিরে শুয়ে ব’সে থাকা যায়,
তবে, -কাজের সন্ধানে বেরোনো সম্ভব নয়।
-পঙ্গু নই, প্রতিবন্ধীও নই, -আমরা কর্মজীবী,
-শ্রমদাতা আমরা; -নই আলসে ভিখারি।
-মানুষকে ভিক্ষা দিতে আসে !
দাতা সেজে আসে ! সেয়ানা ভিখিরিরা ! -
-দেখে লুকাই লজ্জায়।
খয়রাতি কম্বল-শীতবস্ত্রে ঢেকে ঢেকে
প্রচারণার মাধ্যমগুলো গরম রাখা যায়;
তা’তে, -দেহের অংশ, -চোখটুকু, -ঢাকা যায় জানি,
--কখনো যায় না ঢাকা,--
-সম্মানিত শ্রমদাতার ঘামে-ভেজা-পবিত্র দেহখানি।
খয়রাতি খাদ্য-বস্ত্র-দাওয়া চায় না মানুষ;
-শ্রমদাতারা চায়, -বিনিয়োগে-বিনিময়ে
বিশ্ববাজারটাকে পরিচিতির আওতায়।
শুধু ভালোমন্দ ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ঘটিয়ে দিলেই
ন্যায্যমূল্যে চাহিদামতো পণ্যে পণ্যে ভরিয়ে দিতে পারে;
--কর্মজীবীরা শীতে কাতর নয় ॥
দূর থেকে শ্রমজীবীদের নাম ভাঙ্গিয়ে,
কাঙ্গালরূপে দেখিয়ে দেখিয়ে সাঙ্গপাঙ্গসহ ভিক্ষাজীবীরা
ক্ষণস্থায়ী অভিজাত-রূপে পরিচিত ॥
-যদি না-থাকে! বহুরূপী ভিক্ষাবৃত্তি! --
-খয়রাতি-মালে-প্রতিপত্তি সহ পোষ্যদের নিয়ে
পেশাদার অভিজাত ভিখারিরা টেকে না বিধানে ॥
ভিখারির সাথে খয়রাতি মাল নিয়ে টানাটানি
করে না শ্রমদাতা, --ঘটে না মানহানি,-
--শ্রমজীবীরা ‘বিনিময়’ পদ্ধতিতে বিশ্বাসী ॥
কর্মজীবী দেহের তাপের কাছে,
-‘শীত’, --সমস্যা নয়; --
--সাময়িক ঠাণ্ডায় জমে না তারা,
-উঁচু বাঁধ দিয়ে বন্যা ঠেকাতে পারে,
-ভিজিয়ে দিতে পারে খরায় ফাটা ক্ষেত।
-‘বিনিময়’-এ বিশ্বাসী শ্রমদাতারা
‘কর্মক্ষেত্র’-কে চলন্ত বাসস্থান জেনে
দখল ছেড়ে দেয় অচল প্রাসাদের ॥
কর্মজীবীরা কখনো মরে না ভিক্ষাজীবীর মতো
দেহে-মনে দূরারোগ্য রোগে ভুগে ভুগে ॥
শ্রমদাতারা ভিক্ষা চায় না পোষ্যদের মতো;
-দান চায় না, --তারা চায় প্রতিদান সসম্মানে ॥
ভিখিরিরা সাঙ্গপাঙ্গ-সহ খয়রাতি মাল
ফিরিয়ে নিয়ে যাক্ নিজেদের আড়তে; -
-বাঁচুক খেয়ে-প’রে স্বজাতির সঙ্গে কম্বল জড়িয়ে।
--মানুষগুলোকে নিজেদের দলে না-টেনে
ভিক্ষাজীবীরা এতটুকু জেনে যাক্, -
-শীতে-বন্যায়-খরায়, --
শ্রমদাতা কর্মজীবীরা কাতর-ক্লান্ত নয়;
-চায় না তারা ‘বেকার-ভাতা’ কোনো ভিক্ষাজীবীর কাছে ॥
আত্মসম্মানিত মানবসন্তানগুলো চায়, --অবমুক্তি;
-‘খয়রাতি কৌশলে দাবিয়ে রাখা সুযোগ’-এর মুক্তি।
শ্রমজীবীরা চায়, -বিশ্ববাজারের চাহিদামতো
সম্ভাবনাময় কর্মক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন ব্যবস্থা ॥
রঙ্গপুর - ২০/০১/২০০৩ খ্রিঃ
শীতে কাতর হইনি ॥
-কাজের সন্ধানে সন্ধানে ক্ষয় হ’তে হ’তে
কিছু শক্তি এখনো আছে দেহে, -যা’দিয়ে
এ’পাশ ও’পাশ ফিরে শুয়ে ব’সে থাকা যায়,
তবে, -কাজের সন্ধানে বেরোনো সম্ভব নয়।
-পঙ্গু নই, প্রতিবন্ধীও নই, -আমরা কর্মজীবী,
-শ্রমদাতা আমরা; -নই আলসে ভিখারি।
-মানুষকে ভিক্ষা দিতে আসে !
দাতা সেজে আসে ! সেয়ানা ভিখিরিরা ! -
-দেখে লুকাই লজ্জায়।
খয়রাতি কম্বল-শীতবস্ত্রে ঢেকে ঢেকে
প্রচারণার মাধ্যমগুলো গরম রাখা যায়;
তা’তে, -দেহের অংশ, -চোখটুকু, -ঢাকা যায় জানি,
--কখনো যায় না ঢাকা,--
-সম্মানিত শ্রমদাতার ঘামে-ভেজা-পবিত্র দেহখানি।
খয়রাতি খাদ্য-বস্ত্র-দাওয়া চায় না মানুষ;
-শ্রমদাতারা চায়, -বিনিয়োগে-বিনিময়ে
বিশ্ববাজারটাকে পরিচিতির আওতায়।
শুধু ভালোমন্দ ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ঘটিয়ে দিলেই
ন্যায্যমূল্যে চাহিদামতো পণ্যে পণ্যে ভরিয়ে দিতে পারে;
--কর্মজীবীরা শীতে কাতর নয় ॥
দূর থেকে শ্রমজীবীদের নাম ভাঙ্গিয়ে,
কাঙ্গালরূপে দেখিয়ে দেখিয়ে সাঙ্গপাঙ্গসহ ভিক্ষাজীবীরা
ক্ষণস্থায়ী অভিজাত-রূপে পরিচিত ॥
-যদি না-থাকে! বহুরূপী ভিক্ষাবৃত্তি! --
-খয়রাতি-মালে-প্রতিপত্তি সহ পোষ্যদের নিয়ে
পেশাদার অভিজাত ভিখারিরা টেকে না বিধানে ॥
ভিখারির সাথে খয়রাতি মাল নিয়ে টানাটানি
করে না শ্রমদাতা, --ঘটে না মানহানি,-
--শ্রমজীবীরা ‘বিনিময়’ পদ্ধতিতে বিশ্বাসী ॥
কর্মজীবী দেহের তাপের কাছে,
-‘শীত’, --সমস্যা নয়; --
--সাময়িক ঠাণ্ডায় জমে না তারা,
-উঁচু বাঁধ দিয়ে বন্যা ঠেকাতে পারে,
-ভিজিয়ে দিতে পারে খরায় ফাটা ক্ষেত।
-‘বিনিময়’-এ বিশ্বাসী শ্রমদাতারা
‘কর্মক্ষেত্র’-কে চলন্ত বাসস্থান জেনে
দখল ছেড়ে দেয় অচল প্রাসাদের ॥
কর্মজীবীরা কখনো মরে না ভিক্ষাজীবীর মতো
দেহে-মনে দূরারোগ্য রোগে ভুগে ভুগে ॥
শ্রমদাতারা ভিক্ষা চায় না পোষ্যদের মতো;
-দান চায় না, --তারা চায় প্রতিদান সসম্মানে ॥
ভিখিরিরা সাঙ্গপাঙ্গ-সহ খয়রাতি মাল
ফিরিয়ে নিয়ে যাক্ নিজেদের আড়তে; -
-বাঁচুক খেয়ে-প’রে স্বজাতির সঙ্গে কম্বল জড়িয়ে।
--মানুষগুলোকে নিজেদের দলে না-টেনে
ভিক্ষাজীবীরা এতটুকু জেনে যাক্, -
-শীতে-বন্যায়-খরায়, --
শ্রমদাতা কর্মজীবীরা কাতর-ক্লান্ত নয়;
-চায় না তারা ‘বেকার-ভাতা’ কোনো ভিক্ষাজীবীর কাছে ॥
আত্মসম্মানিত মানবসন্তানগুলো চায়, --অবমুক্তি;
-‘খয়রাতি কৌশলে দাবিয়ে রাখা সুযোগ’-এর মুক্তি।
শ্রমজীবীরা চায়, -বিশ্ববাজারের চাহিদামতো
সম্ভাবনাময় কর্মক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন ব্যবস্থা ॥
রঙ্গপুর - ২০/০১/২০০৩ খ্রিঃ
গণতন্ত্রের চর্চা : চার (সতর্কীকরণ)
গণতন্ত্রের চর্চা : চার (সতর্কীকরণ)
নেমে পড়ো, নেমে পড়ো রাস্তার পাশে,
থামাও রাষ্ট্রের পতাকাবাহী ঐ চলন্ত চারচাকার গাড়ি।
প্রতিনিধি, নেমে আসো।
আমরা তোমার নির্বাচকেরা, পথচারী,
আমাদের সম্মানে নেমে আসো রাস্তার পাশে।
গাড়ির ইঞ্জিন চালু থাকুক।
আমাদের তেলের কতটুকু অপচয় হবে
তা’ নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না।
ব্যস্ত তোমাকে আজ আমরা আটকে রাখবো না।
আমাদেরকে শুধু শ্রদ্ধা জানিয়ে
সসম্মানে ঐ গাড়িতে চড়েই
আবার চ’লে যেয়ো, যেখানে যাচ্ছিলে।
এভাবেও যদি আমাদের আত্মসম্মানবোধ
জেগে ওঠে তো,-আমাদের কিছু হোক বা না-হোক,
তুমি লাভবান হবে, এটা নিশ্চিত।
আমার ভোট, আমার রায়,
নিজেকে নিজে বেচে দিতে পারি
মাঝারি মাপের একটা দেশি মুরগির দামে।
এই তো সেদিন জাতীয় নির্বাচনে
প্রতিনিধির পদবীটা কিনে নিতে পেরেছো ভেবে
গর্বের হাসি হেসেছিলে।
আমাকে কিনে নিতে পারার গৌরবের হাসিতে
তোমাকে বেশ মানায় হে, আমাদেরই উপযুক্ত প্রতিনিধি,
নিজেকে বেচি কার কাছে, জানি না এখানে।
আত্মসম্মান কাকে বলে, সেটাও বুঝি না যখন,
নিজেকেই যে-জন একটা মুরগির সমমূল্যে বেচতে পারে
এমন নির্বাচকের কাছে তার প্রতিনিধির দাম, মনে রেখো,
প্রচলিত বাজারে একটা ডিমের সমান, তবে
নির্বাচকেরা আহাম্মক থেকে গেলে ডিমটাও যেন বেশি,
ডিমের খোসার সমতুল্য মূল্যটা পেলেই
যেকোনো ক্রেতার কাছে তোমাকে বেচে দিতে পারে।
প্রতিনিধি, তোমাকে সতর্ক রাখার জন্যে আমরা গাড়ি থামিয়ে
রাষ্ট্রের তেল-মবিল আর ইঞ্জিনের যেটুকু ক্ষয় করলাম
আগামীতে আমাদেরকেই ক্ষয়পূরণের ধকল সইতে হবে জানি।
গাড়ির ইঞ্জিন চালু থাকতে থাকতেই উঠে বসো গাড়িতে,
যাও, যেখানে যাচ্ছিলে যাও, কার তেল কোথায় কিভাবে পোড়ে
ভেবে দুঃখ পেয়ো না, নিজেকে কষ্ট দিয়ো না, ভালো থেকো,
যেখানেই তুমি যাও, সাথে রেখো আমাদের সতর্কবাণী।
রঙ্গপুর : -২৩/১১/০৮ করণিক : আখতার হারাটিয়া ।
নেমে পড়ো, নেমে পড়ো রাস্তার পাশে,
থামাও রাষ্ট্রের পতাকাবাহী ঐ চলন্ত চারচাকার গাড়ি।
প্রতিনিধি, নেমে আসো।
আমরা তোমার নির্বাচকেরা, পথচারী,
আমাদের সম্মানে নেমে আসো রাস্তার পাশে।
গাড়ির ইঞ্জিন চালু থাকুক।
আমাদের তেলের কতটুকু অপচয় হবে
তা’ নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না।
ব্যস্ত তোমাকে আজ আমরা আটকে রাখবো না।
আমাদেরকে শুধু শ্রদ্ধা জানিয়ে
সসম্মানে ঐ গাড়িতে চড়েই
আবার চ’লে যেয়ো, যেখানে যাচ্ছিলে।
এভাবেও যদি আমাদের আত্মসম্মানবোধ
জেগে ওঠে তো,-আমাদের কিছু হোক বা না-হোক,
তুমি লাভবান হবে, এটা নিশ্চিত।
আমার ভোট, আমার রায়,
নিজেকে নিজে বেচে দিতে পারি
মাঝারি মাপের একটা দেশি মুরগির দামে।
এই তো সেদিন জাতীয় নির্বাচনে
প্রতিনিধির পদবীটা কিনে নিতে পেরেছো ভেবে
গর্বের হাসি হেসেছিলে।
আমাকে কিনে নিতে পারার গৌরবের হাসিতে
তোমাকে বেশ মানায় হে, আমাদেরই উপযুক্ত প্রতিনিধি,
নিজেকে বেচি কার কাছে, জানি না এখানে।
আত্মসম্মান কাকে বলে, সেটাও বুঝি না যখন,
নিজেকেই যে-জন একটা মুরগির সমমূল্যে বেচতে পারে
এমন নির্বাচকের কাছে তার প্রতিনিধির দাম, মনে রেখো,
প্রচলিত বাজারে একটা ডিমের সমান, তবে
নির্বাচকেরা আহাম্মক থেকে গেলে ডিমটাও যেন বেশি,
ডিমের খোসার সমতুল্য মূল্যটা পেলেই
যেকোনো ক্রেতার কাছে তোমাকে বেচে দিতে পারে।
প্রতিনিধি, তোমাকে সতর্ক রাখার জন্যে আমরা গাড়ি থামিয়ে
রাষ্ট্রের তেল-মবিল আর ইঞ্জিনের যেটুকু ক্ষয় করলাম
আগামীতে আমাদেরকেই ক্ষয়পূরণের ধকল সইতে হবে জানি।
গাড়ির ইঞ্জিন চালু থাকতে থাকতেই উঠে বসো গাড়িতে,
যাও, যেখানে যাচ্ছিলে যাও, কার তেল কোথায় কিভাবে পোড়ে
ভেবে দুঃখ পেয়ো না, নিজেকে কষ্ট দিয়ো না, ভালো থেকো,
যেখানেই তুমি যাও, সাথে রেখো আমাদের সতর্কবাণী।
রঙ্গপুর : -২৩/১১/০৮ করণিক : আখতার হারাটিয়া ।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)